চাঁদে রহস্যময় যাত্রা ‘আর্টেমিস টু’

ছবি : সংগৃহীত
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
মানব ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আছে, যা কেবল একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না—বরং যুগের গতিপথ বদলে দেয়। ১৯৬৯ সালের অ্যাপোলো ১১ চন্দ্র অবতরণ ছিল তেমনই এক ঘটনা। এটি শুধু চাঁদে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন নয়, বরং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মানবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার এক অনন্য সমন্বয়।
দেশে চালু হচ্ছে ‘গুগল পে’
নাসা পরিচালিত এই অভিযানে অংশ নেন তিন নভোচারী—নিল আর্মস্ট্রং, বাজ অলড্রিন এবং মাইকেল কলিন্স। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের পর তারা প্রায় তিন দিন ভ্রমণ করে চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছান। এরপর আর্মস্ট্রং ও অলড্রিন ‘ঈগল’ লুনার মডিউলে চাঁদের মাটিতে অবতরণ করেন, আর কলিন্স কক্ষপথেই অবস্থান করেন। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই আর্মস্ট্রং ইতিহাস সৃষ্টি করেন এবং তার বিখ্যাত উক্তি আজও বিশ্বজুড়ে অনুপ্রেরণার উৎস।
চাঁদে অবতরণের ভিডিও নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকলেও বাস্তবতা হলো, এটি কোনো স্টুডিওতে ধারণ করা হয়নি। নভোচারীরা বিশেষভাবে পরিবর্তিত ক্যামেরা ব্যবহার করে ভিডিও ধারণ করেন এবং সিগন্যাল পৃথিবীতে পাঠান, যা অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের রেডিও টেলিস্কোপের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সম্প্রচারিত হয়। সে সময় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি মানুষ এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত সরাসরি দেখেছিল।
অ্যাপোলো ১১ মিশন শেষে নভোচারীরা চাঁদ থেকে প্রায় ৪৭ পাউন্ড শিলা ও মাটি নিয়ে আসেন। এসব নমুনা আজও গবেষণায় ব্যবহৃত হচ্ছে এবং চাঁদের গঠন ও উৎপত্তি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে, যা মানব জ্ঞানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করছে।
অর্ধশতাব্দী পরও চাঁদের পথ মানুষের জন্য উন্মুক্ত। আর্টেমিস আই মিশনে অংশগ্রহণ করেন রিড উইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং জেরেমি হ্যানসেন। এই মিশনে তারা চাঁদের চারপাশে ভ্রমণ করে ‘ফার সাইড’ বা অদেখা অংশে অংশ নেন, যা আগে কোনো মানুষ দেখেনি।
এই অভিযানে তারা পৃথিবী থেকে প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড গড়েন, যা আগে অ্যাপোলো ১৩ মিশনের দখলে ছিল। চাঁদের আড়ালে চলে গেলে প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা ছিল মিশনের একটি চ্যালেঞ্জিং মুহূর্ত।
চাঁদের দূরবর্তী অংশে নভোচারীরা যে দৃশ্য দেখেছেন, তা তাদের ভাষায় বর্ণনাতীত। তারা চাঁদের গহ্বর, প্রাচীন লাভা প্রবাহ, উল্কাপিণ্ডের আঘাত এবং বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেন। এমনকি মহাকাশ থেকে পৃথিবীর ‘উদয়’ ও ‘অস্ত’-এর মতো বিরল দৃশ্যও তারা প্রত্যক্ষ করেন, যা মানব অভিজ্ঞতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
মিশনের সময় নভোচারীরা প্রয়াত জিম লাভেলের একটি অনুপ্রেরণামূলক বার্তা শোনেন। পাশাপাশি তারা চাঁদের দুটি নতুন গহ্বরের নামকরণ করেন, যা এই অভিযানের আবেগঘন দিককে তুলে ধরে।
চাঁদে অবতরণ নিয়ে কিছু ষড়যন্ত্র তত্ত্ব থাকলেও—যেমন এটি স্ট্যানলি কুব্রিকের সহায়তায় স্টুডিওতে ধারণ করা হয়েছিল—বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে এসব দাবি টেকে না। বাস্তব প্রমাণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে চাঁদে মানুষের অবতরণ ছিল বাস্তব।
বলা যায়, অ্যাপোলো ১১ থেকে আর্টেমিস টু—এই যাত্রা মানব সভ্যতার সাহস, কৌতূহল এবং অজানাকে জানার অদম্য ইচ্ছার প্রতীক। ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ এবং মঙ্গল গ্রহে অভিযানের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে মানবজাতি।


