অ্যামাজনের সঙ্গে মেটার চুক্তি

ছবি : সংগৃহীত
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
নিজেদের কম্পিউটিং অবকাঠামোতে ‘গ্র্যাভিটন’ কোর যুক্ত করতে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের (এডব্লিউএস) সঙ্গে চুক্তি করেছে মেটা। এর ফলে বিশ্বের শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ‘মেটা’ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্র্যাভিটন গ্রাহকে পরিণত হবে। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক সিপিইউ’র ভেতরের এই প্রসেসিং কোরগুলো পরবর্তী প্রজন্মের জটিল এজেন্টিক এআই চালাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশে চলে এলো স্টারলিংক
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক।
এতে বলা হয়, এই নতুন চুক্তি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও বিস্তৃত করেছে। একইসঙ্গে অ্যামাজনের কাস্টম সিলিকনকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে মেটা তাদের কম্পিউট অবকাঠামোকে বৈচিত্র্যময় করার কৌশল আরও জোরদার করছে। প্রাথমিকভাবে কোটি কোটি গ্র্যাভিটন কোর মোতায়েন শুরু হবে, এবং ভবিষ্যতে মেটার এআই সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ থাকবে।
এআইয়ের ভবিষ্যতের জন্য প্রসেসিং শক্তি
মেটা বলছে, তারা যখন আরও গভীরভাবে এজেন্টিক এআই—অর্থাৎ এমন স্বয়ংক্রিয় এআই সিস্টেম, যা নিজে চিন্তা, পরিকল্পনা এবং জটিল কাজ সম্পাদন করতে পারে—উন্নয়নে কাজ করছে, তখন তাদের কম্পিউট চাহিদাও দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে অ্যামাজনের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী নাফিয়া বশারা বলেন, এটি শুধু চিপের বিষয় নয়; বরং এমন একটি অবকাঠামোগত ভিত্তি, ডেটা এবং ইনফারেন্স সেবা দেওয়ার বিষয়, যার মাধ্যমে গ্রাহকেরা এমন এআই তৈরি করতে পারবেন, যা বুঝতে পারে, আগাম অনুমান করতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে বিলিয়ন মানুষের জন্য দক্ষভাবে স্কেল করতে পারে। মেটার এই সম্প্রসারিত অংশীদারত্ব এবং কোটি কোটি গ্র্যাভিটন কোর মোতায়েন দেখাচ্ছে, উদ্দেশ্যনির্ভর সিলিকনকে পুরো এডব্লিউএস এআই স্ট্যাকের সঙ্গে মিলিয়ে কীভাবে পরবর্তী প্রজন্মের এজেন্টিক এআই চালিত করা সম্ভব।
মেটার দাবি, এডব্লিউএস গ্র্যাভিটন ৫ কোর দ্রুততর ডেটা প্রসেসিং এবং বেশি ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করে, যা বড় পরিসরে ক্রমাগত যুক্তি বিশ্লেষণ ও কাজ সম্পাদন করতে সক্ষম এআই সিস্টেমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অবকাঠামোতে বৈচিত্র্য আনার কৌশল
মেটা বলছে, এই চুক্তি তাদের অবকাঠামো কৌশলের একটি স্পষ্ট নীতিকে সামনে আনে। মেটার মতো স্কেলে এআই নির্মাণে বৈচিত্র্যময় অবকাঠামো অপরিহার্য। এ জন্য তারা একদিকে নিজেদের ডেটা সেন্টার ও কাস্টম হার্ডওয়্যারে বিনিয়োগ করছে, অন্যদিকে ক্লাউড পার্টনারদের সঙ্গে কাজ করছে, যারা বিশেষায়িত সক্ষমতা এনে দিতে পারে। পাশাপাশি, কোন কাজের জন্য কোন আর্কিটেকচার সবচেয়ে উপযোগী, তা নিয়মিত মূল্যায়নও করছে প্রতিষ্ঠানটি।
মেটার হেড অব ইনফ্রাস্ট্রাকচার সন্তোষ জনার্ধন বলেন, মেটার এআই লক্ষ্য পূরণের পেছনের অবকাঠামো যখন আমরা আরও বড় করছি, তখন কম্পিউট উৎসে বৈচিত্র্য আনা একটি কৌশলগত প্রয়োজন। এডব্লিউএস বহু বছর ধরেই আমাদের বিশ্বস্ত ক্লাউড অংশীদার। গ্র্যাভিটনে সম্প্রসারণের ফলে আমরা এজেন্টিক এআইয়ের পেছনের সিপিইউ এর নির্ভর কাজগুলো আমাদের প্রয়োজনীয় পারফরম্যান্স ও দক্ষতায়, আমাদের স্কেলে চালাতে পারব।
বিলিয়ন মানুষের জন্য এআই সেবা
মেটা আরও জানিয়েছে, মেটা এআই এবং এজেন্টিক অভিজ্ঞতাগুলোকে যখন তারা বিশ্বজুড়ে বিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চায়, তখন এ ধরনের অংশীদারত্ব তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোম্পানির মতে, এভাবেই তারা আরও দক্ষ, নমনীয় এবং দ্রুতগতিতে তাদের উচ্চাভিলাষী এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারবে।


