নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তারকাদের

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৫৩ পিএম

মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে এখনো জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি। তার ওপর হামলার ঘটনায় সারাদেশে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তরুণ এই রাজনৈতিক কর্মীর সুস্থতার জন্য প্রার্থনায় শামিল হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখগুলোও। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।


জেমসের কনসার্টে মোবাইল চুরির হিড়িক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা শোবিজ তারকারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাদির সুস্থতা কামনা করে পোস্ট দিচ্ছেন। ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক ১২ ডিসেম্বর রাতে এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “হাদি হয়তো ফিরবে, আরও জোরালো গর্জনে। আর যদি না ফেরে, তার নামটাই হয়ে যাবে নতুন প্রজন্মের যুদ্ধ ঘোষণা।” তার এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


জনপ্রিয় গায়ক তাশরিফ খানও হাদিকে ঘিরে একটি কবিতা লিখে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কবিতায় তিনি বিচারহীনতা, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা এবং অতীতের হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রসঙ্গ টেনে এনে প্রশ্ন তুলেছেন—এই সমাজে আদৌ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব কি-না।

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন হাদির একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, একজন তরুণ যে নিজের দেশকে ভালোবাসত, তার জবাব দেওয়া হয়েছে গুলিতে—সংলাপ বা ন্যায়বিচারে নয়। তিনি জানান, এই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং হাদির সুস্থতার পাশাপাশি তার পরিবারের জন্য শক্তি কামনা করেন।

বাঁধন আরও বলেন, হাদির ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি বিদ্যমান ব্যবস্থারই প্রতিফলন। তার ভাষায়, এই দেশে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা বা পরিবর্তনের দাবি তোলাই যেন অপরাধ। তিনি সতর্ক করে বলেন, হাদির সঙ্গে যা ঘটেছে, সেটি একটি বার্তা—যারা এখনো স্বাধীনভাবে ভাবা ও কথা বলার স্বপ্ন দেখেন, তাদের জন্য এটি ভয়ংকর ইঙ্গিত। আমরা যদি এসব ঘটনাকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিই, তাহলে পরাজয় আগেই মেনে নেওয়া হয়।

এদিকে ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লাস প্রকাশ করা মারিয়া নামের এক মডেলের পোস্ট ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সেই পোস্ট শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সালমান মুক্তাদির। তিনি লেখেন, একজন পাবলিক ফিগার কীভাবে প্রকাশ্যে একটি হত্যাচেষ্টাকে উদ্‌যাপন করতে পারে—তা তার বোধগম্য নয়। মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সহিংসতা উদ্‌যাপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সালমান আরও বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, সেটি ব্যক্তিগত পছন্দ। কিন্তু যখন কেউ প্রকাশ্যে হত্যাকে উৎসাহিত করে বা তা নিয়ে গর্ববোধ করে, তখন সেই মানসিকতা গভীরভাবে উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে গায়ক আসিফ আকবর, অভিনেত্রী ইমু শিকদার, আরজে নিরবসহ আরও অনেক শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সরব হয়েছেন। তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে স্থানান্তর করা হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে।