খাল পুনঃখননে হাসছে কৃষক

ছবি : সংগৃহীত
১২ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলায় দীর্ঘকাল ধরে পলি ও মাটিতে ভরাট হয়ে থাকা খালগুলো প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্যোগে নদী ও খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হওয়ায় জেলাজুড়ে কৃষকদের মাঝে বইছে স্বস্তি ও আনন্দের হাওয়া। খালগুলো সংস্কারের ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পেয়ে ফসলের উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়বে- এমন আশায় এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।
চলছে আ’লীগকে ফেরানোর পরিকল্পনা : আসিফ মাহমুদ
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার নদী ও খালগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে অন্তত ২৩টি নদী এবং ৭৯টি খাল উদ্ধার ও পুনঃখননের মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো কৃষিজমিতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দূর করা।
গাবতলী উপজেলার নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকায় ১ হাজার ২১০ মিটার দীর্ঘ একটি খালের পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই খালটি চালু হলে শুধু সেচ সুবিধাই নয়, বরং এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে শেরপুর উপজেলায় কৃষিকাজে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে বাগড়া খালের পুনঃখনন কাজও শুরু হয়েছে। প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। খনন শেষে খালটির প্রস্থ প্রায় ১.৫ মিটার এবং গভীরতা ৭-৮ ফুট পর্যন্ত রাখা হবে, যাতে সারা বছর পানি প্রবাহ বজায় থাকে।
এছাড়াও শেরপুর উপজেলার 'চটির বিল' খালের প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশ পর্যায়ক্রমে খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আরও প্রায় ৮০ কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কোনো কৃষিজমি জলাবদ্ধতার শিকার না হয়।
শাহজাহানপুর উপজেলায় সুখনার খালের প্রায় ০.৯৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের কাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। এছাড়াও বগুড়া জেলার আনাচে-কানাচে খাল পুনঃখননের কার্যক্রম এখন দৃশ্যমান।
খাল পুনঃখননের এই কর্মযজ্ঞ দেখে স্থানীয় কৃষকরা দারুণ আশাবাদী। শেরপুর উপজেলার এক কৃষক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট হয়ে থাকায় আমরা বর্ষায় জলাবদ্ধতা আর শুকনা মৌসুমে পানির সংকটে ভুগতাম। গ্রামের কৃষি নিয়ে আগে সেভাবে কেউ ভাবেনি। এখন যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর গ্রামমুখী উন্নয়ন দর্শনেরই প্রতিফলন বলে আমরা মনে করি।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বর্তমান উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে গ্রামে কৃষি ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের উন্নয়ন ভাবনার যে প্রতিফলন এই প্রকল্পগুলোতে দেখা যাচ্ছে, তা গ্রামীণ অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাল পুনঃখনন হলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হয় এবং একই সঙ্গে সেই পানি সংরক্ষণ করে সেচের কাজে ব্যবহার করা যায়। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি মাছ চাষ, হাঁস পালনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পায়।
বগুড়ার মাঠজুড়ে এখন সাজ সাজ রব। ভরাট হওয়া খালগুলোতে যখন আবার পানির প্রবাহ দেখা যাবে, তখন সোনালী ফসলে ভরে উঠবে কৃষকের গোলা। সব মিলিয়ে খাল পুনঃখননের এই উদ্যোগ বগুড়ার কৃষকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকটের অবসান ঘটিয়ে খালগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পেলে কৃষিজমি হবে আরও উর্বর এবং বাড়বে ফসলের উৎপাদন। গ্রামের মাঠে যখন আবার পানি প্রবাহিত হবে, তখন বদলে যাবে কৃষির চিত্র- আর সেই উজ্জ্বল সম্ভাবনার আলোতেই সময় পেরিয়ে বগুড়ার কৃষকদের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি।


