ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৭ দিনের ছুটি শুরু

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে সরকারি চাকরিজীবীদের টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হয়েছে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে। সোমবার (১৬ মার্চ) ছিল ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস। কর্মদিবস শেষ হওয়ার পর থেকেই ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে সড়ক ও বিভিন্ন বাস-লঞ্চ টার্মিনালে।


সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম গ্রেপ্তার

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।


সম্ভাব্য এই তারিখকে সামনে রেখে আগে থেকেই পাঁচ দিনের ছুটির সূচি নির্ধারণ করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন সাধারণ ছুটি। এ ছাড়া ঈদের আগে ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ঈদের পরে ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা হয়।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পূর্বঘোষিত ছুটির সঙ্গে অতিরিক্তভাবে ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করে সরকার। আর ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি থাকায় সব মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন।

ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি কমাতে ১৮ মার্চ ছুটি দেওয়ার দাবি উঠেছিল আগে থেকেই। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওইদিন ছুটি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। পরে ৮ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে ১৮ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কার্যপ্রণালি বিধিমালা, ১৯৯৬ অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতাবলে ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে জরুরি সেবা খাত। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা, ডাক সেবা এবং এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত।

এ ছাড়া হাসপাতাল, জরুরি চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহনও এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। জরুরি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো খোলা থাকবে।

এদিকে, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে ব্যাংক ও আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ব্যাংকিং কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর আদালতের কার্যক্রম-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেবে সুপ্রিম কোর্ট।

অন্যদিকে বেসরকারি শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শ্রম আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

ঈদকে ঘিরে গণমাধ্যম খাতেও বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব দেশের গণমাধ্যমের জন্য পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে।

সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দে দেশের অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষ ছুটির আমেজে থাকলেও জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত হাজারো মানুষকে এবারও উৎসবের সময় কর্মক্ষেত্রেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।