কালোবাজারে ওএমএস খাদ্যসামগ্রী, আটক চক্রের ১ সদস্য

গুদাম থেকে চাল-আটা জব্দ, বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা

ছবি : আওয়ার বাংলাদেশ

কিশোর ডি কস্তা (স্টাফ রিপোর্টার)

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

রাজধানীর কাফরুল থানার গোলাবাড়ি এলাকায় ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির চাল-আটা অবৈধভাবে মজুদ ও পুনরায় প্যাকেটজাত করে কালোবাজারিতে বিক্রির অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ডিলারসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে।


উপদেষ্টা পরিষদে গণভোট অধ্যাদেশ পাস

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার (৫ এপ্রিল) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোলাবাড়ি এলাকার একটি গুদামে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ওএমএসের সরকারি চাল ও আটা বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বস্তায় (তীর, আকিজ ও দিনাজপুরের গুটি স্বর্ণা) পুনরায় প্যাকেটজাত করে বেশি দামে বাজারজাতের প্রস্তুতি চলছিল।


অভিযানকালে উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেন। এ সময় গুদাম থেকে ৩৫ বস্তা সরকারি চাল, প্রায় আড়াই বস্তা পুনরায় প্যাকেটজাত চাল এবং ৩৫ বস্তা আটা জব্দ করা হয়। এছাড়া বস্তা সেলাইয়ের একটি মেশিনও উদ্ধার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ অবৈধ কর্মকাণ্ডে ওএমএস ডিলার শারমিন সুলতানা রিপা, মো. মুছা ও জাহাঙ্গীরসহ আরও কয়েকজন জড়িত। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কয়েকজন এই প্রতিবেদকের কাছে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি খাদ্যসামগ্রী মজুদ ও কালোবাজারে বিক্রি করা খাদ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষে প্রধান আসামি শফিকুল ইসলামকে আটকসহ আরও চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ১-২ জনকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর ৫ (৬-২৬) এবং বাৎসরিক মামলা নম্বর ৪৩।

কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ রহমান বলেন, “ওএমএস কর্মসূচি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অসাধু চক্রের কারণে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ধরনের অনিয়ম রোধে কঠোর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”