নববর্ষের অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে : ডিএমপি

ছবি : সংগৃহীত
১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার (ডিএমপি) মো. সরওয়ার বলেছেন, পহেলা বৈশাখ নিয়ে রাজধানীতে জঙ্গি হামলার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা সকাল ৯টায় শুরু হবে। আর নববর্ষের সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে।
প্রক্সি ভোট দিতে পারবে প্রবাসীরা : সিইসি
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর রমনা পার্কে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নিরাপত্তার ব্যবস্থা দেখভাল ও বিশেষ মহড়া পরিদর্শন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির পোশাকের পুলিশ, ডিবি, কাউন্টার টেরোরিজম, সোয়াটসহ সাদা পোশাকের পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি বলেন, বৈশাখী শোভাযাত্রার সামনে, পাশে ও পেছন দিক থেকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা হবে কেউ চাইলে মাঝপথে র্যালিতে প্রবেশ করতে পারবে না। এ সময় মুখোশ পরার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
সরওয়ার বলেন, এছাড়াও ছুরি, চাকুসহ বাড়ি কিছু নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে পারবে না। হাইকোর্ট মোড়, দোয়েল চত্বর, শাহবাগ, মিন্টু রোড, কাকরাইল মসজিদ, মৎস্যভবন মোড় এলাকায় ব্যারিকেডের মাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থল আলাদা করে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে অবরুদ্ধ করা হবে। এসব এলাকায় তল্লাশির মধ্য দিয়ে আগতদের অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে হবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নগরীতে কয়েকটি সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হবে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানের আগের রাতে। অনুষ্ঠান শেষে ওই সব সড়ক খুলে দেওয়া হবে। নগরবাসীকে এসব কাজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার।
ডিএমপি থেকে বলা হয়েছে, নববর্ষ উদযাপন ঘিরে জনসমাগম বেশি হয় এমন স্থানগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাতিরঝিলসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে রমনা পার্ক ও আশপাশের এলাকায় মুখোশ, ব্যাগ, ধারালো বস্তু এবং দাহ্য পদার্থ বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ফানুস, আতশবাজি ও শব্দদূষণ সৃষ্টি করে এমন বাঁশি ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সবাই নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পুরো ঢাকাকে ৯টি সেক্টর ও ১৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি এলাকায় ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম দিয়ে আগাম তল্লাশি চালানো হবে।
রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪টি প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসানো হবে এবং আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের তল্লাশি করা হবে।
নিরাপত্তা জোরদারে সিসিটিভি, ভিডিও ও স্টিল ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি চালু থাকবে। এছাড়া পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও আশপাশের ভবনের ছাদে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার প্রতিরোধে সাদা পোশাকে বিশেষ টিম কাজ করবে। অনিয়ন্ত্রিত হকার প্রবেশ ঠেকাতেও থাকবে নজরদারি। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার রোধে সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।
রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সকাল ৬টা ১৫ মিনিট থেকে ৮টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত গেট দিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকবে, যেখানে নারী-পুরুষ ও শিল্পীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ রাখা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার উদ্যোগে সকাল ৯টায় শুরু হবে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা। চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর ঘুরে আবার চারুকলায় এসে শোভাযাত্রা শেষ হবে। পুরো রুট কঠোর নিরাপত্তার আওতায় থাকবে এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। বিকেল ৫টার পর রমনা পার্কে প্রবেশ বন্ধ থাকবে; শুধুমাত্র বের হওয়ার জন্য গেট খোলা থাকবে।
পহেলা বৈশাখের দিন ভোর ৫টা থেকে শাহবাগ ও আশপাশ এলাকায় যান চলাচলে ডাইভারশন দেওয়া হবে। বাংলামোটর, কাকরাইল, হাইকোর্ট, নীলক্ষেতসহ ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যারিকেড থাকবে। নগরবাসীকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।
জরুরি সেবার জন্য নির্ধারিত স্থানে পার্কিং সুবিধা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিকেল টিম এবং নৌ-পুলিশের ডুবুরি দল প্রস্তুত থাকবে।
ডিএমপি কমিশনার জানান, পহেলা বৈশাখ ঘিরে কোনো নির্দিষ্ট হুমকি নেই, তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তিনি সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো সন্দেহজনক কিছু দেখলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ বা ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রমনা বটমূলে ১৪ এপ্রিল সকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করবে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ও ছায়ানট। বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান আবশ্যিকভাবে জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গান পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রতি বছরের ন্যায় পহেলা বৈশাখে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র আয়োজন করবে। শোভাযাত্রায় এ বছরের প্রতিবাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। অনুষ্ঠানগুলো সব সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন, রেডিও, বাণিজ্যিক রেডিও ও কমিউনিটি রেডিওতে সম্প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


