সংসদে মন্ত্রী-এমপিরা দেরিতে, নিয়মিত কার্যক্রমে ছন্দপতন

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বিলম্বে উপস্থিতির কারণে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ছন্দপতন ঘটেছে। আজ সোমবার জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রী ও উত্থাপনকারী সংসদ সদস্য নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকায় জরুরি জন–গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি–৭১) নিষ্পত্তি করতে দেরি হয়। পরে দুই মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য উপস্থিত হওয়ায় দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণের আলোচনা স্থগিত রেখে নোটিশ নিষ্পত্তি করা হয়।


৬ লেনের রাস্তা ও বিশেষায়িত হাসপাতাল চায় বরিশালবাসী

এদিকে সংসদের নির্ধারিত সময়ে অধিবেশন শুরু না হওয়ার বিষয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এমপি মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল।


আজ সোমবার সংসদের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

আজ সোমবার দিনের কার্যসূচিতে শুরুতে ছিল প্রশ্নোত্তর। এটি টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। এরপর ছিল জরুরি জন–গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি–৭১) এর গৃহীত নোটিশের ওপর আলোচনা। তিনটি নোটিশ গ্রহণ করা হয়েছিল আলোচনার জন্য। এর মধ্যে একটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, একটি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর এবং আরেকটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর মনোযোগ আকর্ষণের জন্য।

প্রথম নোটিশটি ছিল বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের। এটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আনা হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জয়নুল আবদিনকে তাঁর নোটিশ পড়ে শোনানোর আহ্বান জানান। এ সময় নোটিশ উত্থাপন করতে দাঁড়িয়ে ছিলেন ফারুক। এর পরপরই স্পিকার বলেন, ‘কিন্তু মন্ত্রী মহোদয় কী আছেন?’ স্পিকার তখন জয়নুল আবদিনকে একটু অপেক্ষা করতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী আসতে একটু দেরি হচ্ছে।’

এরপর স্পিকার বলেন, দ্বিতীয় নোটিশ উত্থাপনরকারীকেও একটু অপেক্ষা করতে হবে। মন্ত্রীকে তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। এরপর তৃতীয় নোটিশটি আর উত্থাপনের আহ্বান না জানিয়ে স্পিকার প্রথমে বলেন, নোটিশগুলোর নিষ্পত্তি স্থগিত রাখা হলো। অবশ্য পরক্ষণেই তিনি সুনামগঞ্জ–১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলকে তাঁর নোটিশটি পড়ার আহ্বান জানান। তবে এই সংসদ সদস্য এ সময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। তাই এটি উত্থাপিত হয়নি।

এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে বেসামরিক বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি ও জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শুরু করেন তাঁরা। সেখানেও একাধিক সংসদ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হলেও তাঁরা অনুপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম উপস্থিত হওয়ায় প্রায় সোয়া ১ ঘণ্টা পরে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা স্থগিত রেখে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশ নিষ্পত্তি করেন স্পিকার। অন্যদিকে কামরুজ্জামান কামরুল নোটিশ উত্থাপনের ওপর বিবৃতিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘আমি আগাগোড়ায় উপস্থিত ছিলাম, প্রশ্ন কর্তাই উপস্থিত ছিলেন না।’

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান উলাসী-যদুনাথপুরে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনসহ কয়েকটি কর্মসূচিতে যশোর যান। যে কারণে তিনি আজ সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত নেই। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীসহ সরকারি দলের অনেক সংসদ সদস্যও অনুপস্থিত ছিলেন। সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল আজ বেলা ৩টায়। নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট পরে অধিবেশন শুরু হয়।

এদিকে সংসদ অধিবেশন দেরিতে উপস্থিত হওয়ার বিষয়ে সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল।

মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, ‘গতকালকে রোববার সংসদ নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা পরে শুরু হয়েছে, আজও সোমবার কয়েক মিনিট পরে শুরু হয়েছে। দিনের কার্যক্রম শেষে পরের দিনের কার্যক্রম কখন শুরু হবে, তা বলা হয়ে থাকে। কিন্তু কোনো কারণে এটা বিলম্বিত হয়, আমি মনে করি কার্যক্রম শুরুর পূর্বেই কারণটা জানিয়ে দেওয়া হোক, শুরুতেই জানানো উচিত। যা গতকালও বলা হয়নি, আজও বলা হয়নি।

জামায়াতের এ এমপি বলেন, উপস্থিতির ব্যাপারেও আরও সতর্ক হওয়া উচিত।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দিনের অধিবেশন শেষে গতরাতে ডেপুটি স্পিকার সময় ঘোষণা করেছিলেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন বিকেল তিনটায় অধিবেশন বসবে। কিন্তু সংসদ সদস্যরা দেরিতে আসার কারণে অধিবেশন বিলম্বিত হয়েছে। আমি শুধুমাত্র অনুরোধ জানাতে পারি, পরবর্তী অধিবেশনের জন্য যে সময় ঘোষণা করা হবে, মাননীয় সদস্যগণ সে সময়মতো সংসদে উপস্থিত থাকলে কোনো সমস্যা হবে না।’

এরাপর চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেন, ‘সংসদ এ যাবৎকাল সময়মতো বসেছে। শুধুমাত্র গতকাল রোববারে আমাদের সংসদীয় দলের বৈঠক ছিল। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি থাকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আসতে ১০ মিনিট দেরি হওয়ার কারণে আমাদের ১০ মিনিট দেরি হয়েছে। আমি সংসদে ঢুকেছি, সবাই যখন ঢুকেছে ১০ মিনিট দেরি হয়েছে। আমরা দুঃখিত। কিন্তু কথাটা হচ্ছে ১০ মিনিটের জায়গায় আধা ঘণ্টা বললে সেটাতে দুঃখিত বলা যায় না, সেটা অসুবিধা। ভবিষ্যতে আমরা সতর্ক থাকব, যাতে দেরি না হয়, যাতে সময়মতো শুরু করতে পারি।’

চিফ হুইপ বলেন, ‘আজকে সোমবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যশোর গিয়েছেন। সংগত কারণে আমাদের অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরাও সেখানে গিয়েছেন। কাজেই সে কারণে আজকে একটু দেরি হতে পারে। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করব, যাতে ভবিষ্যতে সময়মতো আসি।’ সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সময়মতো অধিবেশনে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন চিফ হুইপ।

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘একটি বিষয় সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, সংসদের কার্যক্রম যেকোনো সরকারি কার্যক্রমের চাইতে অগ্রাধিকার লাভ করে।’