মতলবে হামলার অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক : এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষর

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার উত্তর বাইশপুর এলাকায় কথিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্যের বিপরীতে স্থানীয়দের একাংশ ভিন্ন দাবি তুলে ধরায় ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

সারাদেশ ডেস্ক

০৪ মে ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম

সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মতলব পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাইশপুর গ্রামের পাঠান বাড়ির মৃত সোবহান পাঠানের ছেলে মো. লোকমান পাঠান অভিযোগ করেন, তার নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে এবং পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ একাধিকবার কল করেও কোনো সহায়তা পাননি। প্রতিবেদনে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. রাসেল পাঠান, মো. জলিল পাঠান ও মো. সোহেল পাঠানসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়।


বৃষ্টির দেখা পেল ঢাকাবাসী

তবে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের একটি অংশের দাবি, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


গত ১ মে (শুক্রবার) মাগরিবের পর এলাকাবাসী ও স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ঘটনাটি নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হয়। উপস্থিত অনেকেই জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনা তারা প্রত্যক্ষ করেননি।

অভিযোগ অস্বীকার করে মো. রাসেল পাঠান বলেন, “লোকমান পাঠানের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে তিনি মিথ্যা হামলার ঘটনা সাজিয়ে আমার ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন।”

তিনি আরও দাবি করেন, লোকমান পাঠান তার প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে না দিয়ে বাড়ির সামনে চলাচলের পথ বন্ধ করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন, যা সম্পন্ন হলে তার বাড়িতে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি, মারামারি বা স্বর্ণ লুটের অভিযোগকেও তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর একাংশ প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন। এতে প্রায় ৫০ জন অংশগ্রহণ করেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তি বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ ও মামলার মাধ্যমে এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে আসায় সঠিক তথ্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।