পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন, সুবিধা পাবে সাত কোটি মানুষ

ছবি : সংগৃহীত
১৪ মে ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি বহুল আলোচিত ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় দেশীয় অর্থায়নে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই মেগা প্রকল্পসহ মোট সাত প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
লিবিয়া থেকে ফিরেছেন ১৭০ বাংলাদেশি
একনেক সভা শেষে এসব তথ্য জানান সরকারের পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। এটি ছিলো বর্তমান সরকারের তৃতীয় একনেক বৈঠক।
১৯৭৫ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের পদ্মা নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে তীব্র পানি সঙ্কট দেখা দেয়। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা ও কৃষি-সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষে এই ব্যারেজ নির্মাণের দীর্ঘদিনের আলোচনা থাকলেও ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে এটি সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিলো।
মন্ত্রী জানান, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রকাশের পর এর নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং ২০৩৩ সাল নাগাদ প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা অর্থাৎ ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।
গঙ্গা চুক্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানি বন্টন নিয়ে করা গঙ্গা চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের একটি কারিগরী দল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মঙ্গলবারের একনেক সভায় অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পগুলো হলো- সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধন) এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধন) প্রকল্প। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জেলা শহরে বিদ্যমান মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রকে ৩০ শয্যা বিশিষ্ট কেন্দ্রে উন্নীতকরণ প্রকল্প। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের হাই-টেক সিটি-২ এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্প। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি শিশু পরিবার এবং ছোটমনি নিবাস নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধন)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাভার সেনানিবাসে সৈনিকদের আবাসন সমস্যা নিরসনে ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড (পতেঙ্গা হতে সাগরিকা) (পঞ্চম সংশোধিত) প্রকল্প। এছাড়াও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অধীনে ধনুয়া হতে ময়মনসিংহ পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


