১০৮ মেয়ের ‘বাবা’ রুবেল!

ছবি : সংগৃহীত
১৯ মে ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
রক্তের সম্পর্ক নেই, নেই আত্মীয়তা, জন্মদাতা না হয়েও বাবা হিসেবে এতিম ১০৮ মেয়ের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন ব্যবসায়ী মো. রুহুল আমিন রুবেল। এসব মেয়ের কারও বাবা নেই, কারও নেই মা। কেউ বড় হয়েছেন নানা-নানি আবার কেউ দাদা-দাদির সংসারে। অনেকে মাদ্রাসায় কষ্টে বেড়ে উঠেছেন। জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে তাদের পাশে বাবা হিসেবে দাঁড়িয়েছেন তিনি। নিয়েছেন বিয়ের আয়োজনের সব দায়িত্ব।
বিনিয়োগকারীদের জন্য আদর্শ গন্তব্য বাংলাদেশ
এতিম বলে বিয়ের অনুষ্ঠানে কমতি রাখেননি কোনো কিছুর। কনের জন্য লাল বেনারসি শাড়ি, গয়না, আলোকসজ্জা, গেট, কনে ও বরের স্টেজ, বিউটিশিয়ান দিয়ে কনে সাজানো— করেছেন সব ব্যবস্থাই। শুধু তাই নয়, প্রত্যেক মেয়ের বিয়ের আয়োজনে ছিল দেড়শ থেকে দুইশ অতিথি। নিজের খরচে এতিম মেয়েদের বিয়ে দিয়েই শেষ নয়, নিয়মিত খোঁজখবরও রাখেন মেয়ে-জামাতার। এ কাজে খরচ করেছেন নিজের উপার্জিত টাকা ছাড়াও তার ১৯ শতাংশ জমি বিক্রির টাকা।
গত ২২ মার্চ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ডাবনাজুল এলাকায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফেয়া আক্তার নামে এক এতিম মেয়ের বিয়ের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় ১০৮তম বিয়ে।
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের মৃত মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে রুবেলের (৫০) রয়েছে অ্যাগ্রো ফার্ম ও ইলেকট্রনিক ব্যবসা।
ছোটবেলার একটি ঘটনা তার চিন্তায় বেশ প্রভাব ফেলে। রুবেলের সাত বছর বয়সে তার মা পরনের নতুন শাড়ি খুলে দেন এক অসহায় নারীকে। এতে অনুপ্রাণিত হন। ২০০২ সালে তার কার্যক্রম শুরু হয় এলাকার এক এতিম প্রতিবন্ধী মেয়ের বিয়ের মাধ্যমে। ২০২৩ সালে রুবেল খবর পান, বগুড়া সদর উপজেলার বিদুপাড়া গ্রামের দিনমজুর মাফুজার রহমান টাকার অভাবে একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিতে পারছেন না। তিনি মেয়েটির পরিবারকে বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করতে বলেন। কিন্তু ওই সময় রুবেল অর্থসংকটে পড়েন। অবশেষে নিজের খামারের গরু বিক্রি করে ওই মেয়ের বিয়ে দেন।
প্রত্যেক মেয়ের বিয়েতে ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা খরচ করেছেন রুবেল। এছাড়া সমাজের অসহায় ও দুস্থ মানুষের ঘর নির্মাণ এবং এলাকাবাসীর সুবিধার্থে নির্মাণ করে দিয়েছেন কয়েকটি কালভার্ট। সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার এলাকার দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঈদ, বিশেষ দিনসহ বিভিন্ন সময় মানুষকে সহায়তা দেন।
‘পৃথিবীতে সামান্য সময়ের অতিথি আমি, চিরকাল থাকব না। চলে যেতে হবে। সঙ্গে কিছুই নিয়ে যেতে পারব না। আখিরাতের জন্য আমি কিছু সঞ্চয় করতে চাই। এর বাইরে আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। মৃত্যুর পর যেন আমার কোনো সম্পদ পৃথিবীতে না থাকে। আমার যে সম্পদ রয়েছে, তার সব আমি এ কাজে ব্যয় করতে চাই, বললেন রুহুল আমিন রুবেল।
আমার এ কাজে অসন্তুষ্ট হয়ে স্ত্রী আমাকে ছেড়ে চলে যায়। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে ৯ মাস পর ফিরে আসে। এ কাজে আমাকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করে আমার একমাত্র মেয়ে। যতদিন আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখেন, ততদিন এই কার্যক্রম চালিয়ে যাব,’— যোগ করেন তিনি।
বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বললেন, অবহেলিত ও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন রুবেল। এসব পরিবারের পাশে সমাজের বিত্তবানদের তার মতো এগিয়ে আসা দরকার।


