বাংলাদেশের মানুষ জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না : ফখরুল

ছবি : সংগৃহীত
২০ মে ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
ধর্মের নামে মিথ্যাচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে রাজনীতি করা যাবে না। জনগণের ভোট ও মর্যাদা পেতে হলে সত্য কথা বলতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ কখনো জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না। বুধবার (২০ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁও পরিত্যক্ত বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবর্ধনা ও স্বাগত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শাহবাগে অবস্থান ইনকিলাব মঞ্চের
একইসঙ্গে তিনি ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর দ্রুত চালুর আশ্বাস দেন এবং জেলার উন্নয়নে একাধিক বড় প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কখনো সংস্কারের বিরুদ্ধে নয়। বরং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ধর্মের নামে মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ফায়দা নিতে চায়।
জামায়াতের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, জামায়াতে ইসলাম স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, মা-বোনদের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে। তাই এদেশের মানুষ তাদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে বিমানবন্দরটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, তারেক রহমান সাহেব নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—ঠাকুরগাঁওয়ে এয়ারপোর্ট হবেই। আমরা সবাই হয়তো যাতায়াত করতে পারব না, কিন্তু এটা হবে আমাদের গর্ব। আমরা বলতে পারব, আমাদের একটি বিমানবন্দর আছে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের “সবুজ পাতায়” অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এর আগে সকালে ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ছাদ ঢালাই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমি সব সময় আপনাদের বলেছিলাম—এটি আমার শেষ নির্বাচন। আমি আবারও বলছি—এটি হয়তো আমার শেষ নির্বাচন। নির্বাচনের আগে আমি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছি, সেগুলো রক্ষা করতে চাই।
তিনি এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমি আপনাদের এই এলাকার সন্তান। আপনারা আমাকে কখনো বিমুখ করেননি। যতবার আপনাদের সামনে এসেছি, আপনারা আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন।
অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি জানান, সদর উপজেলাকে ভেঙে আরও দুটি নতুন উপজেলা গঠনের বিষয়ে সরকারের অনুমতি পাওয়া গেছে। এছাড়া জেলার দীর্ঘদিনের দাবি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদনও মিলেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, খুব দ্রুত এসব প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর ঘোষণা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ধারণা, বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
অন্যদিকে, জামায়াতকে নিয়ে মির্জা ফখরুলের কঠোর রাজনৈতিক বক্তব্যেও সরগরম হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক অঙ্গন।
এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বেইমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


