রোজা সম্পর্কিত ২০টি প্রচলিত ভুল

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:২২ পিএম

রোজা শুধুমাত্র ক্ষুধা ও তৃষ্ণার নাম নয়; এটি তাকওয়া অর্জনের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের সমাজে রোজা নিয়ে কিছু ভুল ধারণা ও অভ্যাস প্রচলিত আছে, যা রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দেয়। নিচে রোজা সম্পর্কিত এমন ২০টি প্রচলিত ভুল ও সংক্ষিপ্ত দিক-নির্দেশনা তুলে ধরা হলো:


‘ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান দায়িত্বজ্ঞানহীন’

১. রমজানের চাঁদ না দেখা।


অনেকে চাঁদ দেখাকে গুরুত্ব দেন না বা যাচাই ছাড়াই খবরের ওপর নির্ভর করেন। অথচ চাঁদ দেখা শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

২. রোজার জন্য খাবার মজুদ করা।

রমজান আসলে আমরা খাবারের দিকে বেশি মনোযোগ দিই! অথচ উচিত ছিল আমল, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির প্রস্তুতিকে প্রাধান্য দেওয়া।

৩. বাচ্চাদের রোজা রাখতে না দেওয়া।

অথচ রোজা ফরজ না হলেও শিশুদের ধীরে ধীরে রোজায় অভ্যস্ত করা সুন্নতসুলভ প্রশিক্ষণ।

৪. মুখে নিয়ত করা জরুরি মনে করা।

নিয়ত মূলত অন্তরের কাজ। মুখে উচ্চারণ না করলেও অন্তরে রোজার ইচ্ছা থাকলেই নিয়ত সহিহ হয়।

৫. রোজা রেখেও পাপ কাজে লিপ্ত হওয়া।

মিথ্যা, গিবত, চোখ ও কানের গুনাহ রোজার সওয়াব নষ্ট করে দেয়।

৬. মেসওয়াক করাকে দোষের মনে করা।

অথচ রোজা অবস্থায় মিসওয়াক করা জায়েজ, বরং সুন্নত।

৭. সাহরি বেশি দ্রুত বা বেশি দেরিতে খাওয়া।

সাহরি দেরিতে খাওয়া সুন্নত, তবে ফজরের ওয়াক্ত হয়ে গেলে আর সাহরি করা যাবে না।

৮. গোসল ফরজ হলে সাহরি খাওয়াকে দোষের মনে করা।

‘জুনুব’ অবস্থায় সাহরি খাওয়া ও রোজা রাখা সহিহ; শুধু ফজরের নামাজের আগে গোসল করা ফরজ।

৯. সাহরি না খেলে রোজা হয় না মনে করা।

সাহরি খাওয়া সুন্নত, ফরজ নয়। সাহরি না খেলেও রোজা সহিহ হয়।

১০. সাহরিতে খেজুর না খাওয়া।

খেজুর খাওয়া সুন্নত, বাধ্যতামূলক নয়। অন্য হালাল খাবারেও সাহরি করা যায়।

১১. সাহরিতে দোয়া-মুনাজাত না করা।

সাহরির সময় দোয়া কবুলের বিশেষ সময়—এটি অবহেলা করা উচিত নয়।

১২. থুতু গিললে রোজা ভেঙে গেছে মনে করা।

নিজের স্বাভাবিক থুতু গিলে ফেললে রোজা ভাঙে না।

১৩. ফজর পড়ে ঘুমানো।

ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমানো জায়েজ, কিন্তু নামাজ কাজা করে ঘুমানো মারাত্মক গুনাহ।

১৪. মাগরিবের আজানের জবাব না দেওয়া।

আজানের জবাব দেয়া সুন্নত ও সওয়াবের কাজ।

১৫. তারাবিতে তাড়াহুড়ো করা।

খুশু-খুজু ছাড়া দ্রুত তারাবি পড়া রমজানের রুহ নষ্ট করে দেয়। চার রাকাত পরপর দোয়া করা জরুরি কিছু নয়।

১৬. রোজা রেখে সময় অপচয় করা।

অযথা গল্প, সোশ্যাল মিডিয়া ও নাটকে সময় নষ্ট করা রোজার বরকত কমিয়ে দেয়।

১৭. ইফতারদাতার জন্য দোয়া না করা।

ইফতার গ্রহণের পর ইফতারদাতার জন্য দোয়া করা সুন্নত।

১৮. ইতেকাফ না করা।

মাহে রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিফায়া; সমাজে অন্তত কিছু মানুষের আদায় করা উচিত।

১৯. রোজার শেষ দিন কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকা।

শেষ দশক ইবাদতের শ্রেষ্ঠ সময়, অথচ আমরা তা হাটে-বাজারে নষ্ট করি।

২০. ফিতরা সময়মতো আদায় না করা।

ফিতরা ঈদের নামাজের আগেই আদায় করা ওয়াজিব; দেরি করলে গুনাহ হয়।

মাহে রমজান হলো আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহভীতির মাস। রোজা সম্পর্কিত এই প্রচলিত ভুলগুলো সংশোধন করতে পারলে আমাদের রোজা হবে আরও প্রাণবন্ত, অর্থবহ ও কবুলের কাছাকাছি, ইনশাআল্লাহ।