রামিসা হত্যার ২ আসামি আদালতে

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তাদের রাখা হয়েছে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায়। রোববার দুপুরে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেবে থানা-পুলিশ।


ঈদগাহের উন্নয়নে অনুদান দিলেন ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন

এদিকে রাষ্ট্রের নিয়োগ প্রাপ্ত আইনজীবী আজিজুল রহমান দুলু আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। আজকে চার্জশিট জমা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।


গত মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ বলেছে, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর ফ্ল্যাটের সাবলেট এই ভাড়াটে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন। স্বপ্নাকে আটকের পর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অভিযাব্ন চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সেহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে ওই দিনই পল্লবী থানায় মামলা করে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলায় তাদের রুমে নিয়ে যায়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পায় তার মা। এরপর ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সোহেল ও স্বপ্নার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পায়। স্বপ্না সেখানে দাঁড়ানো ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বলেছেন, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলের সোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেন। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যান।

এদিকে এ মামলায় আসামিদের পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য আইনি সহায়তা দিবে না মর্মে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রামিসা হত্যা মামলা