কারা আসছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতৃত্বে?

ঢাকা মহানগর নতুন কমিটিতে কি স্থান পাবেন রাজপথের যোদ্ধারা? সুসময়ের ‘কোকিল’ না কি দুঃসময়ের ‘বাজপাখি’: কোন পথে ঢাকা বিএনপি?

ছবি : সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ মে ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

মেয়াদ শেষের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কমিটির বর্তমান মেয়াদ। আগামী কাউন্সিল ও আন্দোলন-পরবর্তী সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে রাজপথের এই গুরুত্বপূর্ণ দুই কমিটিতে পরিবর্তন আসার গুঞ্জন এখন তুঙ্গে। তবে নতুন কমিটি গঠনের এই প্রক্রিয়ায় ‘নতুন মুখ’ আসার প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরীর নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মুখে মুখে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ, আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়।


অস্তিত্ব নেই সূচনা ফাউন্ডেশনের

তৃণমূলের দাবি, কোনো ড্রয়িংরুমের নেতা বা নব্য সুবিধাবাদী নয়, বরং কমিটিতে স্থান পাক বিগত ১৭ বছরের প্রতিটি হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া দলের আসল যোদ্ধারা। কর্মীদের মুখে মুখে এখন আলোচনায় উঠে আসছে আলহাজ্ব নবীউল্লা নবী, মীর নেওয়াজ আলী, হারুন কমিশনার, লিটন মাহমুদ এবং তানভীর আহমেদ রবিনের মতো পরীক্ষিত ও সাহসী নেতাদের নাম। যারা দুঃসময়ে কর্মীবাহিনীকে আগলে রেখেছিলেন এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত পরিপক্ব।


তৃণমূলের দাবি, গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যখন দলের আপামর কর্মীরা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন, তখন অনেক ‘নতুন মুখ’ রাজপথেই ছিলেন না। এখন সুসময়ে এসে তারাই দলের শীর্ষ পদগুলো হাতিয়ে নিতে লবিং-তদবিরে মেতে উঠেছেন।

ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সাংগঠনিক দায়িত্বে যাদের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে, তাদের বড় একটি অংশই বয়সে তরুণ এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে ঢাকার মতো সংবেদনশীল এলাকা পরিচালনার জন্য উপযুক্ত বা দক্ষ নন।

দলের ভেতরের একটি বড় অংশের দাবি—এসব অনভিজ্ঞ প্রার্থীর অনেকের বিরুদ্ধে বিগত ১৭ বছর ধরে ‘পদ বাণিজ্য’ ও ‘সুবিধাবাদী’ রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার দাবি রয়েছে। আরও গুরুতর বিষয় হলো, গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর, এই নতুন পদপ্রত্যাশীদের অনেকের বিরুদ্ধে মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় ‘চাঁদাবাজি’ ও ‘দখলদারিত্ব’ এর মতো স্পর্শকাতর দাবি উঠেছে। এই পরিস্থিতির কারণে ঢাকার নয়াপল্টন ও মহানগরীর কার্যালয়গুলোতে সাধারণ নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দিন দিন কমছে এবং দলীয় কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের চরম হতাশা কাজ করছে বলে জানা যায়। নতুন এই মুখগুলোকে নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যেও কোনো ধরনের উৎসাহ বা আনন্দ দেখা যাচ্ছে না বলে জানা যায়।

ঢাকা মহানগরের সাধারণ মানুষ ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের দাবি, অতীতে ঢাকা মহানগর যেভাবে পরিচালিত হয়েছিল, ঠিক তেমনি একটি শক্তিশালী ও ন্যায়পরায়ণ অভিভাবকত্ব প্রয়োজন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার আমলে ঢাকা মহানগরীকে অত্যন্ত সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেছিলেন ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহ, শওকত আলী, মির্জা আব্বাস, সাদেক হোসেন খোকা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের মতো সাহসী ও জনঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদরা। তাদের নেতৃত্বে ঢাকার রাজপথ সবসময় সুসংগঠিত ছিল।

বর্তমান ক্রান্তিকালে ঢাকাবাসী ও সাধারণ ভোটাররা আবারও তেমন সাহসী, সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী ও ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব কমিটিতে দেখতে চান।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা মহানগরীর নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে হাইকমান্ড যদি ত্যাগী ও অভিজ্ঞদের মাইনাস করে বিতর্কিত বা অনভিজ্ঞদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেয়, তবে তা আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দলটিকে বড় ধরনের খেসারত দিতে হতে পারে।

বিএনপি মহানগর কমিটি
ত্যাগী নেতৃত্ব দাবি
ঢাকা রাজনীতি আলোচনা